আমাদের সর্বমোট ব্লগ নির্দেশিকা
কৃষি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সফল খামারিদের বিষদ অভিজ্ঞতা নিবন্ধ।
নারিকেলের সাদা মাছি পোকা দমনে কৃষকের করণীয়: ফলন রক্ষায় সমন্বিত ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনা
নারিকেলের সাদা মাছি পোকা একটি ক্ষতিকর রস শোষণকারী পোকা, যা পাতার নিচের অংশে আক্রমণ করে গাছকে দুর্বল করে এবং ফলন কমিয়ে দেয়। আক্রান্ত পাতায় সাদা মোমের মতো আবরণ, সর্পিল আকৃতির ডিম এবং কালো ছত্রাকের আস্তরণ দেখা যায়। এ পোকা দমনে আক্রান্ত পাতা অপসারণ, বাগান পরিষ্কার রাখা, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্
বারোমাসি সজিনা চাষ: অল্প জমিতে সারা বছর পুষ্টিকর পাতা উৎপাদনের সহজ কৌশল
বারোমাসি সজিনা অল্প জমি, বাড়ির আঙিনা কিংবা ছাদবাগানেও চাষ করে সারা বছর পুষ্টিকর পাতা উৎপাদন করা যায়। বাণিজ্যিক ও পারিবারিক—দুই পর্যায়েই এটি সম্ভাবনাময় একটি ফসল। ভালো ফলনের জন্য পানি জমে না এমন রৌদ্রোজ্জ্বল জায়গা, উপযুক্ত মাটি এবং ঘন করে চারা রোপণ করা জরুরি। গাছ ৩–৪ ফুট হলে নিয়মিত ছাঁটাই করলে বেশি শ
ঘরে বসেই বিষমুক্ত ফল: টবে সহজ উপায়ে অর্গানিক স্ট্রবেরি চাষ
টবে অর্গানিক উপায়ে স্ট্রবেরি চাষের মূল শর্ত হলো সঠিক সময় ও জাত নির্বাচন, ঝুরঝুরে মাটি এবং উপযুক্ত আলো-বাতাস। অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ভালো নিষ্কাশনযুক্ত চওড়া টবে সুষম জৈব উপাদান (গোবর, কোকোপিট, নিমখৈল ইত্যাদি) দিয়ে চারা রোপণ করতে হয়। গাছের সুস্থ বৃদ্ধি ও ফল পচন রোধে প্রতিদিন অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা রোদ, পর
থাই ও ভিয়েতনামী বারোমাসি মাল্টা চাষ: সারা বছর ফলন পেতে যা জানা জরুরি
থাই ও ভিয়েতনামী বারোমাসি মাল্টা বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ফল চাষের জন্য সম্ভাবনাময় একটি ফসল। সঠিক পরিচর্যা করলে একই গাছে বিভিন্ন সময়ে ফুল, কাঁচা ও পাকা ফল পাওয়া যায়, ফলে বছরের বিভিন্ন সময়ে বাজারজাত করার সুযোগ থাকে। সফল চাষের জন্য উঁচু ও সুনিষ্কাশিত জমি, পর্যাপ্ত সূর্যালোক এবং দোআঁশ বা বেলে-দো
ছাদকৃষির নতুন আকর্ষণ: ড্রাগন ফলের চাষ—বিশেষ পরিচর্যা ও ফলন বৃদ্ধির কৌশল
ছাদে ড্রাগন ফল চাষ অল্প জায়গায় ভালো ফলন পাওয়ার একটি সহজ ও লাভজনক উপায়। সুস্থ ও পরিপক্ক কাটিং, পানি নিষ্কাশনযোগ্য মাটি এবং উপযুক্ত আকারের টব ব্যবহার করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গাছের জন্য শক্ত খুঁটি বা সাপোর্ট দিতে হবে এবং প্রতিদিন পর্যাপ্ত রোদ নিশ্চিত করতে হবে। ভালো ফলনের জন্য পরিমিত পানি, সুষম সার এবং
কাঁঠালের মূচী ঝরা রোগ দমনে কৃষকের করণীয়: লক্ষণ, কারণ, প্রতিকার ও ফলন বৃদ্ধির কার্যকর উপায়
সারাংশ: কাঁঠালের মূচী ঝরা রোগে মূচী ও কচি ফল অকালেই ঝরে পড়ে, ফলে ফল ধারণ কমে যায় এবং উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। রোগের প্রধান কারণ হলো ছত্রাকজনিত সংক্রমণ, অতিরিক্ত আর্দ্রতা, দুর্বল পরাগায়ন, পুষ্টির ঘাটতি ও অনিয়মিত সেচ। আক্রান্ত মূচী ও কচি ফল অপসারণ, বাগান পরিষ্কার রাখা, ডালপালা ছাঁটাই, সুষম সা
পান গাছের পচা রোগ নিরাময়ে কৃষকের করণীয়: রোগ শনাক্ত, প্রতিরোধ ও কার্যকর দমন ব্যবস্থা
পান গাছের পচা রোগ (গোড়া ও শিকড় পচা) বাংলাদেশের পান বরজের অন্যতম ক্ষতিকর ছত্রাকজনিত রোগ, যা সাধারণত Sclerotium rolfsii ছত্রাকের কারণে হয়ে থাকে। এ রোগে গাছের গোড়া ও শিকড় পচে যায়, পাতাগুলো হলুদ হয়ে ঝরে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত গাছ শুকিয়ে মারা যায়। বরজে অতিরিক্ত আর্দ্রতা, পানি জমে থাকা, অপর্যাপ্ত নিষ্কাশন ব্
হাইব্রিড ভুট্টা চাষ পদ্ধতি: উচ্চ ফলন পেতে জমি প্রস্তুতি, সার ব্যবস্থাপনা, সেচ ও পরিচর্যা
হাইব্রিড ভুট্টা চাষে উন্নত জাত নির্বাচন, অক্টোবর–ডিসেম্বরে বপন, ঝুরঝুরে দোআঁশ মাটি, ৬০–৭৫ সেমি সারি দূরত্ব, সুষম সার প্রয়োগ, ৪–৬ বার সেচ, আগাছা ও ফল আর্মিওয়ার্ম দমন এবং সঠিক সময়ে ফসল সংগ্রহ করলে প্রতি হেক্টরে ১০–১৪ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব।
টমেটুর ছত্রাকজনিত রোগ: লক্ষণ, কারণ ও কার্যকর দমন পদ্ধতি
টমেটুর প্রধান ছত্রাকজনিত রোগ হলো আর্লি ব্লাইট, লেট ব্লাইট, ফিউজারিয়াম উইল্ট, সেপটোরিয়া পাতার দাগ এবং অ্যানথ্রাকনোজ। এসব রোগে পাতায় দাগ, গাছ ঢলে পড়া, ফল পচা এবং ফলন হ্রাস ঘটে। রোগমুক্ত বীজ, ফসল পর্যায়ক্রম, সঠিক সেচ, আক্রান্ত অংশ অপসারণ, ট্রাইকোডার্মা ব্যবহার এবং প্রয়োজন হলে অনুমোদিত ছত্রাকনাশক প্রয়োগ
টমেটুর ভাইরাসজনিত রোগ: লক্ষণ, কারণ ও কার্যকর দমন পদ্ধতি
টমেটুর প্রধান ভাইরাসজনিত রোগ হলো টমেটু পাতামোচড় ভাইরাস, টমেটু মোজাইক ভাইরাস এবং কিউকাম্বার মোজাইক ভাইরাস। এসব রোগে পাতা মোচড়ানো, মোজাইক দাগ, গাছ খাটো হওয়া, ফল বিকৃতি এবং ফলন হ্রাস ঘটে। ভাইরাস রোগের কোনো নিরাময় নেই; তাই রোগমুক্ত বীজ ও চারা ব্যবহার, সাদা মাছি ও এফিড দমন, আগাছা পরিষ্কার রাখা, আক্রান্ত
এলাচ চাষে লাভের হাতছানি: বাংলাদেশে চাষ উপযোগী এলাকা ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি
এলাচ বাংলাদেশের একটি উচ্চমূল্যের ও চাহিদাসম্পন্ন মসলা ফসল, যার বাজারের বড় অংশ এখনো আমদানিনির্ভর। দেশে সীমিত পরিসরে যশোরের শার্শা, বান্দরবানের রুমা, গাজীপুর সদর, কুড়িগ্রামের রৌমারী, চট্টগ্রামের মিরসরাই, বগুড়ার শিবগঞ্জ, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, নওগাঁর সাপাহার ও শেরপুরের শ্রীবরদীসহ বিভিন্ন এলাকায় ছোট ও
আমের মুকুল ঝরে পড়া রোধের উপায়: বাংলাদেশি গবেষণাভিত্তিক কার্যকর ব্যবস্থাপনা
আমের মুকুল ঝরে পড়ার প্রধান কারণ হলো প্রতিকূল আবহাওয়া, পানির ঘাটতি বা অতিরিক্ত পানি, হপার ও থ্রিপসের মতো পোকা, পাউডারি মিলডিউ ও অন্যান্য রোগ এবং পুষ্টির ভারসাম্যহীনতা। বাংলাদেশি গবেষণায় জাতভেদে ফল ঝরার হারেও বড় পার্থক্য পাওয়া গেছে। তাই মুকুল ঝরা রোধে একক কোনো ওষুধের ওপর নির্ভর না করে মাটি পরীক্ষা, সু